তাসনিমের সাথে মেসেঞ্জারে একটি নির্ঘুম রাত
- মোঃ মাহিন সরকার - অভিমানী তুমি

আজ কতো বছর পরে তাসনিম আমাকে মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়েছে,তাসনিম আমাকে যখনই ফোন বা মেসেজ দেবে সবার আগে একটা কথা জিজ্ঞেস করবে, “কেমন আছো?” হঠাৎই তার মেসেজটা পেয়ে মনে হচ্ছে যেন কত হাজার বছর পরে কেউ এসে জিজ্ঞেস করলো কথাটা। ম্যাসেজটা সীন করে রিপ্লাই দিলাম, “ভালো। তুমি?”
**তাসনিমঃ- আমিও। কি করছিলে? ব্যস্ত?
**Me:- কিছু করছি না।
**তাসনিসঃ- রাতে খেয়েছো?
**Me:- হুম।
**তাসনিমঃ- এতো রাতে ঘুমাইনি যে!
**Me:- এমনি।
**তাসনিমঃ- বিরক্ত করলাম?
**Me:- নাহ ঠিক আছে, বলো।
**তাসনিমঃ- তেমন কিছু না। এমনি নক দিলাম।
**Me:- ওহ।
**তাসনিমঃ- আমি রাতে খেয়েছি কিনা জিজ্ঞাস করবে না?
**Me:- তুমি তো আর আমি খেয়েছি কিনা সেই ম্যাসেজের রিপ্লাইয়ের অপেক্ষা করো না। (নতুন মানুষের খাওয়া দাওয়ার খোঁজ নাও। সে-ই নিশ্চয় তোমারও সবকিছুর খোঁজ নেয়।) আমি আর জিজ্ঞাস করার কে?
**তাসনিমঃ-এখনো কি রাত জেগে কবিতা লিখো?
**Me:-আমি তো কখনোই কবি ছিলাম না, তবুও তোমায় নিয়ে আমার মধ্যে থাকা অনুভূতি গুলো আমি লিখতাম পাতার পর পাতা।আর তুমি সেসবের নাম দিয়েছিলে কবিতা। আমি তো কবিতা লিখতাম না। আমি তোমাকে লিখতাম। তুমি চলে যাওয়ার পরে কিসের অধিকারে তোমায় লিখবো। তুমি নামক শব্দটার সাথে এখন কবিতা শব্দটাও মুছে গেছে, না এখন আর লিখি না,
**তাসনিমঃ-কেন?
**Me:- তাসনিম… তুমি কি সত্যিই জানতে চাও কেন লিখি না? নাকি তোমার জন্যই যে কবিতা লিখতাম এটা আমার কাছ থেকে শুনতে চাইছো? তুমি নেই। কবিতা নেই। অনুভূতিকে স্পর্শ করে বেয়ে উঠে যাওয়া কোন শব্দ নেই। বর্ণমালা নেই। তুমি তো শুধু একা আমার কাছ থেকে চলে যাওনি। সাথে করে নিয়ে গেছো আমার অনুভূতির আশ্রয়ও।কবিতা আসে না তাই লিখি না।
**তাসনিমঃ- ওহ। আমার কথা কি তোমার মনে পরে মাহিন?
**Me:- তুমি ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে আমার এমন একটা দিন নাই, যেদিন তোমার কথা মনে পরে নাই। হয়তো বাড়াবাড়ি মনে হবে কথাটা শুনে। কিন্তু এটাই সত্যি। আমার জীবনের সবকিছু তো তোমাকে নিয়েই ভাবা। আমার জীবনে তুমি আসার পরে তো তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবিনি আমি। কি করে ভুলবো বলো। তুমি হয়তো নাই। কিন্তু সেই স্বপ্ন গুলোতো আজও আছে। তুমি রয়ে গেছো সেখানে। ঠিক যেমনটা ছিলে। মাঝেমাঝে খুব মনে পরে।
**তাসনিমঃ- ওহ। এতো দেড়ি করে রিপ্লাই দিচ্ছো যে? অন্য কারো সাথে চ্যাট করছো?
**Me:- এখন আমার কারো সাথেই তেমন কথা হয় না। চাইলে বলাই যায়। কিন্তু জানো, আমার এখন কারো সাথে প্রয়োজনের বাইরে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। তোমাকে ম্যাসেজ লিখে লিখে মুছে ফেলছি। এই জন্য দেরি করে রিপ্লাই পাচ্ছো। আর কেই বা আছে যার সাথে এতো রাতে চ্যাট করতে পারি!
**তাসনিমঃ- সত্যিই কি কেউ নাই,নাকি মিথ্যে বলছো,
**Me:-হ্যা,,মিথ্যা হবে হয়তো??
**তাসনিমঃ-আচ্ছা মাহিন একটা কথা জিজ্ঞেস করি,
**Me:- কি??
**তাসনিমঃ-আমার কোনো স্মৃতি আছে তোমার কাছে??
**Me:-হোু আছেতো,তোমার সেই হাসি মাখা মায়াবী ছবি গুলো,যা আমি রোজ দেখি,তোমার হাতে স্পর্শে ছোঁয়ে দেয়া আমার সেই হাত,যা আমি রোজ চুমু খাই,,এইটুকু স্মৃতি যথেষ্ট নয় কি,???
**তাসনিমঃ- কি বলো ???ঐ ছবি গুলো এখনো রয়ে গেছে,
**Me:-হ্যা,,
**তাসনিমঃ-ছিড়ে ফেলে দিও,নয়তো পুড়িয়ে দিও,
**Me:--নাহ্,,
**তাসনিমঃ- কেনো,,,???
**Me:-তোমাকে মনে করে কেঁদে ফেলার চেয়ে,ছবি গুলো জরিয়ে কাঁদতে বেশি ভালো লাগে,
**তাসনিমঃ-এগুলো পাগলামি,,??
**Me:-পাগলতো আগেই ছিলাম,তোমার পাগল,কিন্তু কে জানতো যে তুমি অন্য কাউকে মন দিয়ে ফেলেছো,???
**তাসনিমঃ-থাক এসব কথা,,,
**Me:-হ্যা,,
**তাসনিমঃ-বিয়ে করছো না যে,,??
**Me:-হা করবো,,
**তাসনিমঃ-কবে,,
**Me:-কোনো একদিন,,,,!
আচ্ছা তাসনিম একটা প্রশ্ন করলে উত্তরটা কি পাবো,,???
**তাসনিমঃ-ও,,হ্যা করো,উওর জানা থাকলে অবশ্যই দিবো,,,
**Me:-আচ্ছা তাসনিম তুমিতো জানতে যে আমি পরিবারের বড়,বাবার পর আমিই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি,কখনোতো কাউকে খারাপ রাখি নি,চাইলে তুমিওতো এই পরিবারের একজন হতে পারতে,বিশ্বাস করে হাতটা ধরতে পারতে??টাকা পয়সার অভাবটা না হয় ভালোবাসা দিয়ে পুষিয়ে দিতাম,আমার ছোট ছোট সপ্নগুলো(রোজ ছোট ছোট খুনসুটি আর অভিমানী ঝগড়া,রোজ সকালে তোমার ভেজা চুল আর মিষ্টি চুমুয় ঘুম ভাংঙ্গা,এক কাপ চায়ে দুজনের ভাগ বসানো,সপ্তাহের ছুটির দিনে বাহিরে ঘুরতে যাওয়া,রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝাঁল ফুসকা খাওয়া,চুড়ি দেখলেই হাত ভর্তি চুড়ি কিনে দেওয়ার বায়না করা,মাঝে মাঝে ফুট তোলা রিকশায় বিকেলে ঘুরতে যাওয়া,সময় পেলেই বিকেল বেলায় দুজন হাটতে বের হওয়া,চাঁদনি রাতে বাহিরে বসে গল্প করতে করতে সারারাত কাটিয়ে দেয়া,রোজ খাইয়ে দেওয়ার বায়না করা,কখনো অভিমানী ঝগড়া হলে ঘন্টা না পেরোতেই সরি বলে বুকে এসে লুটিয়ে পড়া,দিন শেষে চকলেট না নিয়ে বাড়ি ফিরলে বাচ্চাদের মতো অভিমান করা,ছেলে বেবি হলে তোমার আর মেয়ে বেবি হলে আমার এই নিয়ে রোজ ঝগড়া করা,দুজনের কেউ একজন বাহিরে গেলে হাজার বার ফোন দিয়ে খুঁজ নেওয়া,কখনো দুজনের কেউ একজন অসুস্থ হলে তাকে আদর করে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া,রোজ নামাজে দুজন দুজনের জন্য আল্লাহর কাছে পার্থনা করা,সব সময় দুজন দুজনকে বুঝতে শিখা,হাসি খুশি থাকা,, মাস শেষে বেতন পেয়ে পছন্দের শাড়ি সাথে দু,হাত ভর্তি চুড়ি কিনে বাড়ি ফেরা,)এই গুলোই আমার সপ্ন,তুমি চাইলেই এই সপ্নগুলোকে বাস্তব করতে পারতে,,,তাই না,,
**তাসনিমঃ-হ্যা,,
**Me:-কি হ্যা,বলো পারতে না,,??
**তাসনিমঃ-ঘুমাবো..
**Me:-উত্তর দিলে না যে..??
**তাসনিমঃ-জানা নাই,,
**Me:-এই শুনো..
**তাসনিমঃ-কি..??
**Me:-একটু জরিয়ে ধরি..??
**তাসনিমঃ-কেনো--?
**Me:-খুব ইচ্ছে করছে...
**তাসনিমঃ-পাগল,মোবাইলে কিভাবে জরিয়ে ধরে????
**Me:-সবাইতো তার ভালোবাসার মানুষকে বাস্তবে জরিয়ে ধরে মনের সব কথা বলে দেয়,,আমি না হয় মোবাইলে ধরেই বলবো,,
**তাসনিমঃ-পাগল,ঘুমাতে যাও,
**Me:-হ্যা,
**তাসনিমঃ-শুভ রাত্রি,
**Me:-আবার কবে কথা হবে..??
**তাসনিমঃ-যে দিন আমার আবার ইচ্ছে হবে..
**Me:-হ্যা,শুভ রাত্রি,
,
,
,
,এটা একটা কাল্পনিক গল্প, আর তাসনিম নামটা আমার খুব পছন্দের তাই এই নামটা দিয়েই লেখার চেষ্টা করেছি,,,
,
,,,,,,,মাহিন,,,,


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

০৭-১১-২০১৫ ২২:৫০ মিঃ

সুন্দর প্রকাশ|


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026